নিজস্ব সংবাদদাতা
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত এবং শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান জোরদারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ১৫ দফা অনুশাসন বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে শিক্ষা প্রশাসন। এরই মধ্যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আচরণবিধি প্রণয়ন, অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান তদারকিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কাজ শুরু হয়েছে।
গত ২৮ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার মানোন্নয়ন, মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি ১৫ দফা অনুশাসন দেন এবং এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন।
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, সারাদেশের স্কুল-কলেজে অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা ও রুটিন বাস্তবায়ন, শ্রেণিকক্ষে আকর্ষণীয় ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত, প্রযুক্তির মাধ্যমে পাঠদান তদারকি, শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পদক ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খসড়া পরিমার্জনের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্বের বাইরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা কমিয়ে শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ বাড়ানোও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজের অগ্রগতি জানাতেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ১৫ দফা অনুশাসনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত, শিক্ষকদের আচরণবিধি সংশোধন, অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা ও রুটিন চালু, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান তদারকি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার, গণিত-ইংরেজি-বিজ্ঞানে শিক্ষক ঘাটতি পূরণ, ভালো কাজের স্বীকৃতি এবং কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর বিষয় রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা গবেষণার জন্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ, সমন্বিত ডিজিটাল প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ও শিক্ষকদের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালুর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ৬ আগস্ট এ বিষয়ে ‘রেকর্ড অব নোটস’ ও কার্যবিবরণী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এর পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সংশ্লিষ্ট উইংগুলোর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে।
মাউশির অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আইসিটি প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৫ হাজার ২৮৮ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দক্ষ শিক্ষকদের নিয়ে ‘মাস্টার ট্রেইনার পুল’ এবং ‘টিচার্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ চালুর পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে সমন্বয় করে অভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা তৈরির কাজও চলছে।
মাঠপর্যায়ে ডিজিটাল তদারকি জোরদারে প্রধান শিক্ষকদের তথ্য হালনাগাদ এবং অ্যাপভিত্তিক শ্রেণিকক্ষ মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাউশির কর্মকর্তারা ডিএমএস অ্যাপের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান সরাসরি পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা নিয়েছেন। গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক ঘাটতি মোকাবিলায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষকদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে নতুন ক্যাটাগরিতে পদক ও পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগও এগিয়ে চলছে।
মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ১৫ দফা অনুশাসন মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে দিকনির্দেশনামূলক। প্রতিটি উইংকে নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়ে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে এবং চলমান কাজসহ অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অ্যাপভিত্তিক লাইভ মনিটরিং ও জাতীয় শিক্ষা চ্যানেলের প্রস্তুতির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
অনুশাসন বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু নির্দেশনা স্বল্পমেয়াদে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলেও জাতীয় শিক্ষা চ্যানেলের মতো উদ্যোগে কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

