নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণ করার এবং সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের সম্পত্তি নয়; এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি ও মর্যাদার প্রতীক।
আজ রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, “বিগত সময়ে নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এই বাহিনীকে অপূরণীয় ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় থেকে যে দেশপ্রেম ও শক্তিশালী মনোভাব গড়ে উঠেছিল, তা অব্যাহত রাখা জরুরি।”
প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “একটি ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না। আমরা এমন এক বাহিনী চাই যাদের বহিঃশক্তি সমীহ করবে আর দেশের জনগণ আস্থায় রাখবে।”
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণকে দেশের জন্য বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপির সরকারের সময়েই এই অর্জন আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। বর্তমানেও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা বিশ্বস্বীকৃত।
প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি সদস্যদের সততা, শপথ ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম (অব.), সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন স্বাগত জানান। দরবারে ঢাকার ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে সদস্যরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।

