বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিটি অস্বাভাবিক মূল্যে সম্পাদিত হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্ত সংশোধনের বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খন্ড) লিমিটেডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইন বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা ছিলেন এবং তারা আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের মতামতও গ্রহণ করেন।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় চুক্তিটি অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে করা হয়েছে। জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এই চুক্তি বর্তমানে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার দুটি পথ বিবেচনা করছে বলে জানান মন্ত্রী। প্রথমত, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। দ্বিতীয়ত, আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে শর্ত সংশোধন ও বিদ্যুতের দাম কমানোর চেষ্টা করা হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৮৩৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র চালু রয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৬ হাজার ২৫৫ এমভিএ সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, সারা দেশে ১৩৯টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণাধীন এবং পুরোনো অনেক উপকেন্দ্র আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

বর্তমানে দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। তবে দৈনিক গড়ে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমবে এবং শিল্প ও আবাসিক খাতে স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Share.
Exit mobile version