নিজস্ব সংবাদদাতা
গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রয়োজন হলে বিচার, তদন্ত ও প্রসিকিউশনের সক্ষমতাও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধোলাইখালের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মাঠে বিএনপি আয়োজিত ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চালু আছে এবং চালু থাকবে। প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত, তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। মানুষের ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁর সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার চেষ্টা করছে এবং ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন বলে প্রচার করছে। সরকারও তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে ফিরলে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাবর্তনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে ভারত এখনো এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি বলে জানান তিনি।
মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যেসব দেশে অবস্থান করছেন, সেসব দেশের প্রতি তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, দেশে ফিরে আইন অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে এবং আপিলের সুযোগও দেওয়া হবে।
সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স এখনো সাত মাস পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই যারা সরকার পতনের আন্দোলনের ঘোষণা দিচ্ছেন, তাদের কর্মকাণ্ড নিয়েও জনগণকে ভাবতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে, গণতন্ত্র সুসংহত করতে এবং সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে চায়। ভবিষ্যতে দেশে স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শাসনের সুযোগ তৈরি না হয়, সে জন্য সাংবিধানিক সংস্কারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জ্বালানি তেলের দাম প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি পাচার রোধ এবং আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি বিবেচনা করেই দেশে দাম বাড়ানো হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগে কিছু সময় দাম বাড়ানো থেকে বিরত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে বাংলাদেশেও সে অনুযায়ী দাম কমানো হবে বলে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

