আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া বিরল বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনের ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা (পিএইচইআইসি) ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
রোববার, ১৭ মে ২০২৬ এ ঘোষণা দেন সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস। তবে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারীজনিত জরুরি অবস্থার মানদণ্ড পূরণ করেনি।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মে পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে অন্তত আটজনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং অন্তত ৮০টি সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকা হলো বুনিয়া, রামওয়ারপারা ও মংগবালু স্বাস্থ্য অঞ্চল।
একই সময়ে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় ডিআর কঙ্গো থেকে যাওয়া দুই ব্যক্তির শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। এছাড়া কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাতেও একজন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক কারণ এটি ইবোলার বিরল “বুন্দিবুগিও” ধরন দ্বারা সৃষ্ট। এই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এর আগে ২০০৭ সালে উগান্ডা এবং ২০১২ সালে ডিআর কঙ্গোতে সীমিত আকারে এই ধরনের সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণের প্রকৃত বিস্তার নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় সংগ্রহ করা নমুনার বড় অংশেই পজিটিভ ফল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল, সীমান্তবর্তী যাতায়াত, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং জনসংখ্যার উচ্চ চলাচলের কারণে সংক্রমণ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডার সীমান্ত এলাকায় নজরদারি, কনট্যাক্ট ট্রেসিং এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা হয়েছে।
ডব্লিউএইচও আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত, আইসোলেশন এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ না করার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের মতে, সীমান্ত বন্ধ করলে অনিয়ন্ত্রিত পথে যাতায়াত বেড়ে যেতে পারে, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলবে।

