নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বড় ধরনের সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মহাসড়কে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে এবং গণপরিবহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন টানা ১৩ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ি ফেরা মানুষের সুবিধার্থে এবারের কোরবানির ঈদে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা সাত দিনের ছুটি পেতে যাচ্ছেন।
জালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত দেশের সব সিএনজি স্টেশন নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখতে হবে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক সরকারি চিঠিতে এই সময়সীমা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে ঈদের আগের সাত দিন, ঈদের দিন এবং ঈদের পরের পাঁচ দিন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে উৎসবের দিনগুলোতে সিএনজি চালিত যানবাহনের জ্বালানি সরবরাহ সচল রেখে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট ও গ্যাস নেওয়ার জন্য গাড়ির অনাকাঙ্ক্ষিত লাইন এড়াতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটির বিষয়ে পৃথক এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানা গেছে, ২০২৬ সালের কোরবানির ঈদে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। নতুন সরকারি ক্যালেন্ডার ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ঈদের ছুটি বহাল থাকবে।
তবে দীর্ঘ এই ছুটি শুরু হওয়ার ঠিক আগে ২৩ ও ২৪ মে যথারীতি অফিস-আদালত খোলা থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট জনপ্রশাসন সূত্র নিশ্চিত করেছে। মূলত ঈদযাত্রায় রাজধানী ছাড়ার চাপ ধাপে ধাপে সামাল দিতে এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের সুষম সমন্বয় আনতেই এই ছুটির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশের যোগাযোগ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই দ্বিমুখী কৌশলকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, উৎসবের দিনগুলোতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামলানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার ক্ষেত্রে সিএনজি স্টেশন খোলা রাখা ও ছুটির এই পুনর্বিন্যাস অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দেশের সব অঞ্চলের মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও আনন্দময় করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি এই সেবা খাতগুলোও মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

