ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রিকেট ইতিহাসে আরও একটি গৌরবময় ও অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের সূচনা করল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। রাওয়ালপিন্ডির পর এবার ঘরের মাঠেও পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছে টাইগাররা।
আজ বুধবার (২০ মে) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের পঞ্চম দিনে সফরকারী পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ ঝাড়ু দেওয়ার রেকর্ড।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা চার ম্যাচ জেতার এক অনন্য ও নতুন নজির গড়ল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, যা বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে আর কোনো দলের বিপক্ষে করে দেখানোর রেকর্ড নেই।
ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনের শুরুতে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩ উইকেট, আর পাকিস্তানের দরকার ছিল আরও ১৫১ রান। বৃষ্টির কারণে খেলা ১৫ মিনিট দেরিতে শুরু হলে পাকিস্তানি লোয়ার অর্ডারকে ভাঙতে মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিক বোলাররা। পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং সাজিদ খান টি-টোয়েন্টি স্টাইলে দ্রুত রান তুলে প্রথম ঘণ্টা পার করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন।
বেশ আক্রমণাত্মক খেলে রিজওয়ান-সাজিদ জুটি স্কোরবোর্ডে ৫৪ রান যোগ করলে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে বাংলাদেশ। অবশেষে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে (২৮) স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান তিনি।
সাজিদের বিদায়ের পর সেঞ্চুরির দিকে এগোতে থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে আর বেশি দূর যেতে দেননি পেসার শরিফুল ইসলাম। ম্যাচের ৯৭তম ওভারে শরিফুলের প্রথম বলে গালিতে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৯৪ রানে আউট হন রিজওয়ান। তাঁর আউটের সময় পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ৩৫৮ রান।
এরপর জয়ের আনুষ্ঠানিকতার জন্য বাংলাদেশকে আর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ৯৮তম ওভারে তাইজুল ইসলামের দ্বিতীয় বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ওয়াইড লং অনে তানজিদের তালুবন্দি হন খুররম শাহজাদ। আর তাতেই ৩৫৮ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান, উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো সিলেট স্টেডিয়াম।
বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪.২ ওভার বল করে ১২০ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৬টি উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম। এছাড়া নাহিদ রানা ২টি এবং শরিফুল ও মিরাজ ১টি করে উইকেট পান।
এর আগে টসে জিতে সিলেট টেস্টের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাসের চমৎকার সেঞ্চুরির ওপর ভর করে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ২৩২ রানেই থমকে যায় পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস। ফলে প্রথম ইনিংস থেকেই ৪৬ রানের মূল্যবান লিড পায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যাটারদের সম্মিলিত দৃঢ়তায় ৩৯০ রানের বড় স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশ, যার ফলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য দূরহ ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়। বিশাল রানের এই পাহাড় তাড়া করতে গিয়ে চতুর্থ দিন থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান এবং শেষ পর্যন্ত পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে ৩৫৮ রানে অলআউট হলে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।


