যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্নার নতুন এমআরএনএ-ভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) টিকার অনুমোদন দিয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে আবেদনটি প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনার জন্য প্রত্যাখ্যান করলেও শেষ পর্যন্ত টিকাটির ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে মডার্না জানায়, তাদের প্রথম এমআরএনএ-ভিত্তিক ফ্লু টিকা এমফ্লুসিভা (mFluCivA) ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়েছে।
কোম্পানিটি আশা করছে, ২০২৬-২০২৭ সালের শ্বাসতন্ত্রজনিত ভাইরাস মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত জনগোষ্ঠীর জন্য টিকাটি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে মডার্না জানিয়েছিল, ফেডারেল ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রকরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্যকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে টিকাটির আবেদন পর্যালোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবে এক সপ্তাহ পর এফডিএ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে এবং মডার্নার সঙ্গে একটি ‘গঠনমূলক’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে এমআরএনএ প্রযুক্তি নিয়ে সমালোচনামুখর অবস্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র। তিনি এমআরএনএ প্রযুক্তি উন্নয়নে ব্যবহৃত ফেডারেল গবেষণা অনুদান বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
কেনেডি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে এফডিএ বিভিন্ন টিকার অনুমোদন প্রক্রিয়া, বিশেষ করে ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকার মূল্যায়ন পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রস্তাবিত নীতিগত পরিবর্তন জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্প এমআরএনএ প্রযুক্তিকে ‘আধুনিক যুগের অলৌকিক আবিষ্কার’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত টিকা তৈরি সম্ভব হয়, যা বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্বের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কোভিড-১৯-এর এমআরএনএ ভ্যাকসিনকে নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এসব টিকা সংক্রমণের গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

