নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংবাদিক, গণমাধ্যম মালিক এবং সংবাদপত্র কর্মচারীদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষায় আগামী জুলাই–আগস্টের মধ্যে একটি যুগোপযোগী গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন এবং স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। সাংবাদিকদের সময়মতো বেতন নিশ্চিত করা এবং অপেশাদার আচরণ থেকে তাদের সুরক্ষা দেওয়া যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি সংবাদপত্র মালিকদের জন্যও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সম্প্রতি সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলা, অপসাংবাদিকতা এবং এর ফলে সৃষ্ট সামাজিক নৈরাজ্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রচলিত আইনে এসব কর্মকাণ্ডকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত না থাকায় ভিন্ন ভিন্ন আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। প্রস্তাবিত গণমাধ্যম কমিশন গঠিত হলে এসব আইনি জটিলতা নিরসন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী আরও জানান, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে বিশেষ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শুল্কমুক্ত বৈদ্যুতিক বাস আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বায়ুদূষণ ও যানজট কমাতে গণপরিবহনে বৈদ্যুতিক বাস ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কত আসনের বাস এই সুবিধার আওতায় আসবে, তা নির্ধারণে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।
উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে মানবতাবিরোধী প্রচারণায় যুক্ত ছিল, সেই কর্মকাণ্ডকে বর্তমান আইনি কাঠামোয় যথাযথভাবে বিচার করা সম্ভব হয়নি। তবে আইনে স্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকলেও সেটি অপরাধ ছিল না—এমনটি বলা যায় না।
তিনি আরও বলেন, নতুন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের মাধ্যমে অতীতের এ ধরনের অপরাধসহ সমসাময়িক গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অনিয়মগুলোকে একটি জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হবে।

