তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দেওয়া ব্যতিক্রমী উপহারে ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতারা পড়েছেন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে। আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন শেষে অংশগ্রহণকারী নেতাদের প্রত্যেককে নাম খোদাই করা একটি করে রিভলবার ও ছয়টি তাজা গুলি উপহার দেন এরদোয়ান। তবে আগ্নেয়াস্ত্রের মতো এই উপহার গ্রহণ, পরিবহন ও সংরক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন দেশের নেতাদের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পড়তে হয় জটিলতায়।
৭ ও ৮ জুলাই আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত দুই দিনের ন্যাটো সম্মেলন শেষে ফেরার পথে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রথম বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এরদোয়ান অংশগ্রহণকারী নেতাদের একটি করে রিভলবার উপহার দিয়েছেন, যার গায়ে সংশ্লিষ্ট নেতার নাম খোদাই করা ছিল।
কালো আস্তরণ দেওয়া লাল বাক্সে রাখা এসব রিভলবারের সঙ্গে ছয়টি তাজা গুলিও দেওয়া হয়। পাশাপাশি একটি চিরকুটে উল্লেখ করা ছিল, এই অস্ত্রের ক্ষেত্রে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রযোজ্য হবে না।
ন্যাটো সদস্যদেশগুলোর কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, এরদোয়ানের এই উপহার ছিল অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত। বিশেষ করে আগ্নেয়াস্ত্র হওয়ায় বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা ও প্রটোকল কর্মকর্তাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তিনিও এরদোয়ানের কাছ থেকে নিজের নাম খোদাই করা একটি ম্যাগনাম রিভলবার পেয়েছেন। তিনি উপহারটিকে ‘ব্যতিক্রমী’ বলে উল্লেখ করেন।
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার নিজ দেশে পৌঁছানোর পর উপহারটির বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি রিভলবারটি বিমানবন্দর পুলিশের কাছে জমা দেন এবং নিরাপদে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাও একই ধরনের উপহার পান। ভন ডার লেনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, অস্ত্রটি অকেজো করে সামরিক জাদুঘরে দান করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাওরোকির কাছেও পৌঁছেছে রিভলবারটি। তবে দেশটির কর্মকর্তারা ২০২২ সালে ইউক্রেন থেকে আনা একটি ট্যাংকবিধ্বংসী গ্রেনেড লঞ্চার বিস্ফোরণের ঘটনার কথা মাথায় রেখে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ও নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের মতো কয়েকজন নেতার রিভলবার এখনো তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এক দেশ থেকে অন্য দেশে সচল আগ্নেয়াস্ত্র পরিবহন অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। ফলে এরদোয়ানের এই ব্যতিক্রমী উপহার এখন কূটনৈতিক সৌজন্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও আইনি প্রশ্নও তৈরি করেছে।

