নিজস্ব সংবাদদাতা
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত ও মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব আইরিন জুবাইদা খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকায় প্রাপ্ত এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইরিন খান শুক্রবার নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পদে তার আনুষ্ঠানিক কর্মকাল শুরু হলো।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার, শরণার্থী সুরক্ষা, আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে আইরিন খানের রয়েছে কয়েক দশকের সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতা। গত ২০২০ সাল থেকে তিনি বিশ্বজুড়ে মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষা এবং প্রসার বিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
তার আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের অন্যতম বড় স্বীকৃতি আসে ২০০১ সালে, যখন তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব নির্বাচিত হন। সংস্থাটির দীর্ঘ ইতিহাসে তিনিই ছিলেন প্রথম নারী মহাসচিব, যিনি ২০০৯ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এই পদে আসীন ছিলেন। এরপর ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ে (ইউএনএইচসিআর) তার ২১ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন রয়েছে। সেখানে তিনি ভারতে চিফ অব মিশন এবং ডিভিশন অব ইন্টারন্যাশনাল প্রটেকশনের উপপরিচালকসহ নানাবিধ নীতিনির্ধারণী পদে কাজ করেছেন। মানবাধিকার রক্ষা এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘সিডনি পিস প্রাইজ’-এ ভূষিত করা হয়।
ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার এবং হার্ভার্ড ল’ স্কুল থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা আইরিন খান ‘দ্য আনহার্ড ট্রুথ: পভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ গ্রন্থের রচয়িতা। তার মতো একজন আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান এবং মানবাধিকার ইস্যুতে দেশের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো হবে বলে প্রত্যাশা করছেন বিশ্লেষকেরা।

