নিজস্ব সংবাদদাতা
লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে তথ্যদাতাদের জন্য নতুন করে মোটা অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ব্যর্থতায় কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কড়া বার্তা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পুলিশ সদর দপ্তরের উদ্যোগে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলন শেষে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অপরাধ দমনের নতুন এই কৌশল ও সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের জন্য পুনর্নির্ধারিত পুরস্কারের কাঠামো তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভারী অস্ত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া পিস্তল, রিভলবার বা শটগানের তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার এবং সাউন্ড গ্রেনেডসহ অন্যান্য লুণ্ঠিত টিয়ার গ্যাস শেল উদ্ধারের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ পুরস্কার পাবেন তথ্যদাতারা। তথ্য প্রদানকারীর শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছে।
অপরাধ দমনে পুলিশের জবাবদিহির ওপর বিশেষ জোর দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর বার্তা দেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতোমধ্যে বাতিলকৃত লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে যেসব অস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলোকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে জানানো হয়, সারা দেশে এসব অস্ত্র, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করে কৌশলগত অভিযান চলছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলে পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করতেই মূলত এই কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তথ্যদাতাদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা এবং পুলিশকে দেওয়া এই কঠোর আলটিমেটামের পর মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তায় কতটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, নজর এখন সেদিকেই।

