নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় সংসদে নিষ্পত্তি না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথে তা আদায় করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের দাবি থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের সঙ্গে কোনো বিশ্বাসঘাতকতাও করা হবে না।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সংবিধান সংশোধনে সরকারি দলের প্রস্তাবিত কমিটিতে বিরোধীদল প্রতিনিধি দেবে না জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাহাত্তর শতাংশ মানুষ যেখানে ভোট দিয়েছে, সেখানে সংসদের ভেতরে এসে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পক্ষে তারা নন।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য আলাদা কোনো কমিটির প্রয়োজন নেই। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বিল আকারে প্রস্তাব এলে বিরোধীদল সেখানে আলোচনায় অংশ নেবে। তবে সরকার যদি নতুন করে সংবিধান সংস্কারের জন্য কোনো প্রস্তাব বা কমিটি গঠন করে, তাহলে সেটি বিবেচনা করে দেখা হবে।

সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোট নিয়ে অধিবেশন আহ্বান, দুর্বল ব্যাংক খাত, প্রবাসীদের সমস্যা এবং বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তারা সংসদে নোটিশ দিয়েছেন। দেশের স্টক মার্কেট ও ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও জনগণের পক্ষে কথা বলা হয়েছে।

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে একটি সুনির্দিষ্ট সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। সীমান্তে পুশ-ইন সংক্রান্ত একটি স্পর্শকাতর নোটিশ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য তা প্রত্যাহার করেননি বলেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।

অতীতের লেজুড়বৃত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের স্বার্থে যৌক্তিক বিরোধীদলের ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তারা ‘বগলদাবা বিরোধীদল’ হবেন না। সংসদের ভেতরে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো আচরণও করবেন না।

তিনি বলেন, কোনো যৌক্তিক বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পেলে তারা ওয়াক আউট করবেন। তবে সংসদের কার্যকারিতা নষ্ট করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় প্রতি মিনিটে এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয় হয় উল্লেখ করে স্পিকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সংসদে ব্যক্তিগত চরিত্রহনন, কোনো দলের চরিত্রহনন কিংবা কারও মনোরঞ্জন ও তোষামোদ করার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত।

শফিকুর রহমান বলেন, তারা সংসদে কারও প্রশংসা করতে আসেননি। জনগণের পক্ষে কথা বলতেই এসেছেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলটির শীর্ষ নেতারা।

Share.
Exit mobile version