বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণ নিয়ে জাতীয় সংসদে মুলতবি প্রস্তাব এনেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। সোমবার বিকেলে তিনি এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

স্পিকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, মাগরিবের নামাজের বিরতির পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে পরে আর কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি এবং রাত সোয়া আটটার পর সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হয়।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান–সংক্রান্ত প্রস্তাব বাস্তবায়নের একটি ধাপ ছিল গণভোট। এতে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়ায় বর্তমান সংসদের একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করার কথা। কিন্তু এখনো এ পরিষদের কোনো অধিবেশন ডাকা হয়নি। বিএনপির সংসদ সদস্যরাও এখনো এ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

এর আগে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়ে আলোচনা করতে রোববার মুলতবি প্রস্তাব আনেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। ওই প্রস্তাবটি নিয়ে মঙ্গলবার সংসদে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে আলোচনা চেয়ে সংসদে মুলতবি প্রস্তাব তোলেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।

পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, একই বিষয়ে ইতোমধ্যে বিরোধীদলীয় নেতার একটি নোটিশ গৃহীত হয়েছে এবং তা নিয়ে আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী, একই বিষয়ে পুনরায় আলোচনা করা যায় না। তাই শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের প্রস্তাবটি মুলতবি প্রস্তাব হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

তবে এ বক্তব্যের পর আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, দুটি প্রস্তাব একই নয়। তিনি জানান, বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবটি ছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে ঘিরে, আর ইকবালের প্রস্তাবটি সরাসরি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে। তাই বিষয় দুটি পৃথকভাবে আলোচনার দাবি রাখে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও একই মত প্রকাশ করে বলেন, ইকবালের প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ নিয়ে, যা আলাদা একটি বিষয়। স্পিকার যদি প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন, তাহলে তা নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা হওয়া উচিত।

শেষ পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকার জানান, জুলাই সনদ সম্পর্কিত নোটিশটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

Share.
Exit mobile version