নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট নিজ নিজ দেশের হয়ে এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই চুক্তি এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে যে এই সমঝোতা স্মারক সাশ্রয়ী মূল্য ও সাপ্লাই চেইনের টেকসইতার ভিত্তিতে জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে। এটি মূলত তেল, গ্যাস, ভূতাপীয় এবং জৈবশক্তি বিষয়ক কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের পাশাপাশি গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে এলএনজি এবং এলপিজিসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক হবে। এই অংশীদারিত্ব সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি কমাতেও বিশেষভাবে সাহায্য করবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই উদ্যোগকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা বলে অভিহিত করেন। তিনি এই বিশেষ সমঝোতা স্মারকটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পেছনে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এই চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে এটি উভয় রাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে উভয় দেশের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন যা এই সম্পর্কের গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

