নিজস্ব সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজ থেকে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৫ মে) একে একে তাদের মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।
গত রোববার (১০ মে) ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার গ্রাম বাংলা টাওয়ারসংলগ্ন একটি বাসায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল। ভোরে চুলা বা লাইটার জ্বালানোর সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুনে দগ্ধ হন পরিবারের পাঁচ সদস্য।
নিহতরা হলেন সবজি বিক্রেতা আবুল কালাম (৩৫), তার স্ত্রী সায়মা (৩২), ছেলে মুন্না (১২) এবং দুই মেয়ে কথা (৪) ও মুন্নি (৭)। বিস্ফোরণে আবুল কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ, সায়মার ৬০ শতাংশ, মুন্নার ৩০ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। গুরুতর অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহতদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বরুকদিয়া এলাকায়।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, শুরু থেকেই দগ্ধদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়ে। নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হলেও পর্যায়ক্রমে সবাই মৃত্যুবরণ করেন।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে গ্যাস লিকেজের বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটির ধারণা, ঘরের ভেতরে জমে থাকা গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরণের সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস বিস্তারিত তদন্ত করছে। একই সঙ্গে আবাসিক ভবনে গ্যাস লাইনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

