নিজস্ব প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি গাড়িচালকদের জন্য বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশটির স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে ৬ হাজার দক্ষ গাড়িচালক নিয়োগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
আজ রবিবার (১৭ মে) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এই নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে। এই উদ্যোগ দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও গতিশীল করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) চালক বাছাইয়ের প্রথম ধাপের সাক্ষাৎকার শুরু হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন চালককে যাচাই-বাছাই করা হবে।
বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশের প্রায় ১৫ হাজার কর্মী এই সংস্থায় ট্যাক্সি ও লিমুজিন চালক হিসেবে কর্মরত আছেন যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজারই বাংলাদেশি। প্রতিনিধি দল জানায়, বাংলাদেশি চালকদের সততা, দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতার কারণে নতুন নিয়োগেও বাংলাদেশকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রশিক্ষণকালীন সময়ে কর্মীদের যথাযথ বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। একই সাথে তিনি চালকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ডাক্তার ও নার্সসহ অন্যান্য পেশাজীবী নিয়োগের আহ্বান জানান।
বৈঠকে উপস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, অনেক কর্মী ঋণ করে বিদেশে যান বিধায় এই নিয়োগের ক্ষেত্রে মোট অভিবাসন খরচ যেন কোনোভাবেই ১ লাখ টাকার ওপরে না যায় সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।
অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি আল আনাস ওভারসিজ-এর প্রতিনিধিরা জানান, গাড়িচালকের এই বিশাল চালানের পাশাপাশি খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ থেকে ক্লিনার, টেকনিশিয়ান ও মেকানিক পদেও বিপুল পরিমাণ জনবল নেবে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি।
এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের শ্রমবাজার আরও বিস্তৃত হবে। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ এবং দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি দেশের জনশক্তি রপ্তানিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

