নিজস্ব প্রতিবেদক
গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অভিপ্রায় ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অবিলম্বে ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদন করতে হবে বলে সাফ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
ভারত সরকারের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো চুক্তিই করতে দেওয়া হবে না। ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকার বিষয়টি গঙ্গার পানিবণ্টন বা ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপরই নির্ভর করছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, চলতি ২০২৬ সালেই ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই সময়োপযোগী ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে দেশের দীর্ঘমেয়াদী পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের সিদ্ধান্তকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান।
প্রতিবেশী দেশের একতরফা পানিনীতিকে বিশাল জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করার এক অন্যায় প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, মাতৃভূমির প্রশ্নে দেশের জনগণকে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে চলতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো চক্রান্তই দেশের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জনগণের বৈধ ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ও কিছু চক্রান্তকারী শক্তি সরকারের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে দেশ-বিদেশে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। এই আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আমি বলতে চাই, এ দেশের মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তারা কোনো চক্রান্তকে সফল হতে দেবে না।
ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের তাৎপর্য তুলে ধরে আয়োজিত এই বিশেষ আলোচনা সভায় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও দেশের বিশিষ্ট পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের নদী ও পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জোরালো আহ্বান জানান।

