স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এইচ’-এ প্রতিটি ম্যাচই যেন একেকটি আলাদা নাটক। স্পেনকে কেপ ভার্দের আটকে দেওয়ার পর এই গ্রুপে আবারও জ্বলে উঠল উত্তেজনার আগুন, এবার সৌদি আরব ও উরুগুয়ের দ্বৈরথে। রোজ বোল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শেষ হলো ১-১ সমতায়। প্রথমে এগিয়ে গিয়েও জয় ধরে রাখতে পারেনি সৌদি আরব, আর শেষ মুহূর্তের চাপ সামলে হার এড়িয়েছে উরুগুয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই গতি ছিল তীব্র, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। দুই দলই আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা নিয়ে নামলেও প্রথমার্ধে কার্যকারিতায় এগিয়ে ছিল সৌদি আরব। সেট-পিস থেকে তৈরি হওয়া এক মুহূর্তে উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার হাত ফসকে গেলে সুযোগ লুফে নেন আব্দুলেলাহ আল-আমরি। কাছ থেকে ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের এমন গোলেই এগিয়ে যায় সৌদি আরব।
দ্বিতীয়ার্ধে চিত্রটা পুরোপুরি বদলে যায়। মার্সেলো বিয়েলসার কৌশলগত পরিবর্তনের পর উরুগুয়ে আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। ফেদেরিকো ভালভার্দে, ভিনাসসহ সবার নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ ছুটে আসে সৌদি রক্ষণে। তবে গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইস যেন একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যান, দুর্দান্ত সেভে ম্যাচে দলকে টিকিয়ে রাখেন তিনি।
তবু চাপের প্লাবন সামলানো শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। ৮০তম মিনিটে ফেদেরিকো ভিনাসের হেড প্রতিহত করলেও আল-ওয়াইস পুরোপুরি বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। ফিরতি বলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে কোনো ভুল করেননি ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউজো, শক্তিশালী ও নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি।
শেষ দিকে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, কিন্তু কোনো পক্ষই আর ব্যবধান গড়তে পারেনি। ফলে ১-১ সমতায় ভাগাভাগি হয় পয়েন্ট, যা গ্রুপ ‘এইচ’-এর লড়াইকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
একদিকে সৌদি আরবের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা, অন্যদিকে উরুগুয়ের ধৈর্য আর শেষ মুহূর্তে ম্যাচে ফিরে আসার মানসিকতা—সব মিলিয়ে এটি ছিল বিশ্বকাপের এক উচ্চমানের, টানটান থ্রিলার।


