বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়েছে দেশের ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) পৃথকভাবে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে এই দাবি উপস্থাপন করেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল)  বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক দু’টি অনুষ্ঠিত হয়।

এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, “বিনিয়োগ বাড়ানো এবং শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য সুদের হার স্থিতিশীল রাখা জরুরি। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে এটিকে এক অঙ্কের মধ্যে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।” এফবিসিসিআই সরকারি খাতের ঋণের চাপ কমিয়ে উৎপাদনমুখী খাতের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাও গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। ডিসিসিআই জানায়, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে মাত্র ৬ দশমিক শূন্য তিন শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমূলক সুদের হার ১০ শতাংশ হলেও গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের হার ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

ডিসিসিআই নেতারা বলেন, ব্যাংক থেকে অর্থায়ন ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং স্বল্প মুনাফাভিত্তিক উৎপাদনশীল শিল্পের জন্য ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। এ কারণে বেসরকারি বিনিয়োগে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। তাই তারা প্রস্তাব করেছেন, নীতি সুদের হার ধীরে ধীরে কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প ও এসএমই খাতের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকিযুক্ত ঋণ সুবিধা চালু করা হোক।

এফবিসিসিআই গভর্নরের কাছে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, একসময় রপ্তানিকারকদের সহায়তায় গঠিত ইডিএফ তহবিল সাত বিলিয়ন ডলার ছিল, যা বর্তমানে কমে প্রায় ২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “গভর্নর এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। আমরা আড়াই বিলিয়ন ডলার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছি। পরে এটি আট বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার কথাও বলা হয়েছে।”

এছাড়া ব্যবসায়ীরা তিন মাস ঋণ পরিশোধ না করতে পারলে প্রতিষ্ঠানকে শ্রেণিবদ্ধ করার মেয়াদ ছয় মাস করার এবং এক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি অবস্থার কারণে অন্য প্রতিষ্ঠানকে একইভাবে খেলাপি ঘোষণা করার ব্যবস্থা বন্ধ করারও প্রস্তাব দিয়েছেন।

Share.
Exit mobile version