স্পোর্টস ডেস্ক
লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর যুগের পর ব্যালন ডি’অর নিয়ে আবারও জমেছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এবারের পুরস্কারের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিনে ইয়ামাল, হ্যারি কেইন ও গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। বিশেষ করে এমবাপ্পে ও ইয়ামাল নিজেদের দাবির কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরায় বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করে ফ্রান্স ফুটবল। এতে এমবাপ্পে, ইয়ামাল, কেইন, দেম্বেলে, লিওনেল মেসি ও এরলিং হলান্ডসহ বিশ্বের শীর্ষ তারকারা জায়গা পেয়েছেন। এবারের পুরস্কার ঘোষণা করা হবে আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে।
এমবাপ্পে নিজের পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হিসেবে দেখাচ্ছেন ব্যক্তিগত সাফল্য। বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে তোলার পথে তিনি ১০ গোল করেছেন এবং মোট ২২ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। ক্লাব পর্যায়েও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলের দিক থেকে দারুণ সময় কাটিয়েছেন। তবে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি তিনি।
ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন ফরাসি তারকা। ফ্রান্স ফুটবলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেন, এটি ব্যক্তিগত পুরস্কার এবং নিজের গোল ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তাঁর জয়ের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়া তাঁর দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
অন্যদিকে ইয়ামালের দাবির পেছনে রয়েছে দলীয় সাফল্য ও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সমন্বয়। স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা শিরোপা ধরে রাখতে বড় অবদান রেখেছেন ১৯ বছর বয়সী এই তারকা। ২০২৫-২৬ মৌসুমে লা লিগার সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
এমবাপ্পের দাবির পর ইয়ামালও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তাঁর মতে, এবারের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এমবাপ্পে ও তিনিই বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড় এবং নিজের অর্জনের ভিত্তিতে পুরস্কারটি তাঁর প্রাপ্য। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা হবে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের ভোটে।
তবে দুজনের বাইরে হ্যারি কেইনের দাবিটিও কোনো অংশে দুর্বল নয়। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে অসাধারণ মৌসুম কাটিয়ে ক্লাব ও দেশের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৩ গোল করেছেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। বায়ার্নকে জার্মান লিগ, জার্মান কাপ ও জার্মান সুপার কাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তুলেছেন তিনি।
গতবারের বিজয়ী উসমান দেম্বেলেকেও হিসাবের বাইরে রাখার সুযোগ নেই। প্যারিস সাঁ জার্মাঁর হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পাশাপাশি গত বছরের ব্যালন ডি’অরও জিতেছিলেন তিনি। এবারও দলের বড় সাফল্যের কারণে তাঁর নামকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই ব্যালন ডি’অরের লড়াইকে শুধু এমবাপ্পে ও ইয়ামালের দ্বৈরথ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। এমবাপ্পের ব্যক্তিগত গোলের রেকর্ড, ইয়ামালের বিশ্বকাপ ও ক্লাব সাফল্য এবং কেইনের অসাধারণ গোলসংখ্যা ও দলীয় ট্রফি—সবকিছু মিলিয়ে এবারের লড়াই হতে পারে বেশ কঠিন।
ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী বেছে নেবেন ১০০টি দেশের একজন করে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক। তাঁরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলীয় সাফল্য ও খেলোয়াড়সুলভ আচরণকে বিবেচনায় নিয়ে ভোট দেবেন। প্রতিটি ভোটার সেরা ১০ খেলোয়াড়ের তালিকা তৈরি করবেন এবং পয়েন্টের ভিত্তিতে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারিত হবে।
তাই এমবাপ্পে ও ইয়ামাল প্রকাশ্যে নিজেদের দাবির কথা বললেও ২৬ অক্টোবরের আগ পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা কঠিন, কার হাতে উঠবে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার। এবার সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ও ক্লাব সাফল্যও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

