বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। বাংলাদেশ সময় সোমবার (২০ জুলাই) রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল। ম্যাচকে ঘিরে দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম, ইতিহাস ও রেকর্ড নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। দুই দলেরই জয় সমান ছয়টি করে, আর দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপে তাদের একমাত্র দেখা হয়েছিল ১৯৬৬ সালের আসরে, যেখানে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
দুই দলের সর্বশেষ দুই সাক্ষাতে হয়েছে মোট ১২ গোল। ২০১০ সালে প্রীতি ম্যাচে ৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তবে ২০১৮ সালে স্পেন ৬-১ গোলের বড় জয় তুলে নেয়। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইস্কো, আর ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপ ফাইনালে এবারই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে কোপা আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন। একই সঙ্গে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর (আর্জেন্টিনা) ও দুই নম্বর (স্পেন) দলের বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়ার ঘটনাও এটিই প্রথম।
২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন খেলছে তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ছয়টি ফাইনালের মধ্যে পাঁচটিতেই জয়ের স্বাদ পেয়েছে তারা। পাঁচটি ইউরো ফাইনালের চারটিতেও শিরোপা জিতেছে স্প্যানিশরা।
অন্যদিকে, ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলছে তাদের সপ্তম বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর আগে তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা এবং তিনবার রানার্সআপ হয়েছে। এবার জিততে পারলে ৬৪ বছরের মধ্যে প্রথম এবং ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
চলতি বিশ্বকাপে সাতটি ম্যাচই জিতেছে আর্জেন্টিনা। ২০০২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে শতভাগ জয় নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে।
অন্যদিকে, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেন টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত। ২০২৪ সালের মার্চে কলম্বিয়ার কাছে হারের পর থেকে তারা ২৭টি ম্যাচ জিতেছে এবং ১০টি ড্র করেছে। এটি ইতালির গড়া আন্তর্জাতিক ফুটবলের যৌথ দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ডের সমান।
গোল করার দিক থেকেও এগিয়ে আর্জেন্টিনা। এবারের বিশ্বকাপে তারা করেছে ১৯ গোল, যা ১৯৭০ সালের ব্রাজিলের পর এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের অন্যতম রেকর্ড। স্পেন করেছে ১৩ গোল, যা তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করেছে আর্জেন্টিনা, যা নতুন রেকর্ড। পাশাপাশি টানা ১৬ বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার কীর্তিও রয়েছে তাদের।
ফাইনালে নজর থাকবে লিওনেল মেসির দিকে। তিনি খেললে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি ফাইনালে মাঠে নামবেন। একই সঙ্গে ৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে তিনি হবেন বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড়।
স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালও গড়তে পারেন নতুন ইতিহাস। মাত্র ১৯ বছর ৬ দিন বয়সে তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হবেন। ফলে মেসি ও ইয়ামালের বয়সের ব্যবধান হবে ২০ বছরেরও বেশি, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম।
রক্ষণেও দুর্দান্ত স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে তারা মাত্র একটি গোল হজম করেছে। শিরোপা জিততে পারলে সবচেয়ে কম গোল হজম করে বিশ্বকাপ জয়ের নতুন রেকর্ড গড়বে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
অন্যদিকে, স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি ইতোমধ্যে ৬৪৮টি সফল পাস দিয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক পাস সম্পন্ন করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। নিজের ২০২২ সালের ৬৩৮ পাসের রেকর্ডও ভেঙেছেন তিনি।

