কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তি বা এআই স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন বিপ্লব ঘটাচ্ছে। সম্প্রতি গবেষকরা দেখিয়েছেন, এআই সিস্টেমগুলো রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং রোগীদের মনিটরিংয়ে মানুষের চেয়ে অনেক দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।
বিশেষ করে জেনারেটিভ এআই ও চ্যাটবটগুলো ডাক্তারদের সহায়ক হিসেবে কার্যকর হচ্ছে। রোগীর শারীরিক তথ্য, রক্তের পরীক্ষা বা মেডিকেল ইমেজ বিশ্লেষণ করতে এআই মডেলগুলো কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সম্ভাব্য রোগের তালিকা তৈরি করতে পারে। এতে চিকিৎসকরা সময় বাঁচাতে পারছেন এবং ত্রুটির সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।
ড. লিসা হাওয়ার্ড, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষক, বলেন, “আমরা এখন এমন সময়ে পৌঁছেছি যেখানে এআই রোগ শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে একজন দক্ষ ডাক্তারকে সমান বা তার চেয়ে ভালো ফল দিতে পারে। তবে এখানে মানবীয় পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য। এআই শুধুই সহায়ক।”
এআই ব্যবহারের মাধ্যমে টেলিমেডিসিনও সহজ হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখন ডাক্তার দেখাতে যেতে হয় না; তারা অনলাইনে তাদের স্বাস্থ্য তথ্য আপলোড করে তাত্ক্ষণিক প্রাথমিক পরামর্শ পেতে পারেন। এছাড়া বড় হাসপাতালগুলো রোগীর ইতিহাস বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ রোগ শনাক্ত করতে এআই ব্যবহার করছে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করছেন, এআই ব্যবহারে কিছু সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি রয়েছে। যদি মডেলটি সঠিকভাবে ট্রেইন না করা হয়, ভুল তথ্য রোগীর ক্ষতি করতে পারে। তাই এআই স্বাস্থ্য খাতে ব্যবহার করার সময় নিয়ন্ত্রক এবং নীতি নির্ধারক সংস্থার ভূমিকা অপরিহার্য।
অপেক্ষাকৃত কম শক্তি ব্যবহার করে দ্রুত এবং নির্ভুল ফলাফল দেওয়ার দিক দিয়ে নতুন এআই মডেলগুলো কার্যকর। উদাহরণস্বরূপ, ‘এনহ্যান্সড টপোগ্রাফিক্যাল স্পার্স ম্যাপিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এআই এখন কম সংযোগের মাধ্যমে দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারে।
এখান থেকে দেখা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবায় এআই ডাক্তারদের কাজকে আরও সহজ, দ্রুত এবং নির্ভুল করবে। তবে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, মানবিক পর্যবেক্ষণ ও নৈতিক দিক বিবেচনা অপরিহার্য।

