শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষার্থীদের সময় সাশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা শুরু হবে ৬ জুন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, পরীক্ষার রুটিন ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। অন্যদিকে, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ৬ জুন শুরু হয়ে শেষ হবে ১৩ জুলাই।

ড. মিলন বলেন, বর্তমানে পরীক্ষা, ফল প্রকাশ এবং ভর্তি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে। একজন শিক্ষার্থীর ১৬ বছর বয়সে এসএসসি এবং ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা ২০ বছর পর্যন্ত গড়িয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে চায়। ডিসেম্বরকে পরীক্ষার মাস হিসেবে নির্ধারণ করে জানুয়ারি থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত বয়সেই উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদন সহজ করতেও এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা জুন-জুলাইয়ের মধ্যে শেষ হলে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সেমিস্টার ধরতে শিক্ষার্থীদের সুবিধা হবে।

এছাড়া ফল প্রকাশের দুই মাসের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কোচিং সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনার বিষয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদান আরও কার্যকর করা গেলে এবং পরীক্ষা ও ভর্তি প্রক্রিয়ার মধ্যকার দীর্ঘ গ্যাপ কমে এলে কোচিংনির্ভরতা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।

শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান ড. মিলন। শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার, শিক্ষার্থীদের পড়ার অভ্যাস বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। নতুন এই সময়সূচি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Share.
Exit mobile version