বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তুলে দিল এক ভয়াবহ নারী নির্যাতনের ঘটনা। দিল্লির রানীবাগ এলাকায় একটি দাঁড়িয়ে থাকা স্লিপার বাসের ভেতরে এক নারী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অত্যন্ত জনবহুল এলাকায় এমন একটি ঘটনার খবর সামনে আসতেই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বাসটির চালক ও তাঁর সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ।

গত সোমবার রাতে ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ভুক্তভোগী নারী দিল্লির পিতমপুরা এলাকার একটি বস্তিতে বসবাস করেন এবং মঙ্গলপুরীর একটি কারখানায় কাজ করেন। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় তিনি এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আইএএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ মে রাতে ওই নারী সরস্বতী বিহারের একটি বাসস্টপেজে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সে সময় একটি স্লিপার বাস সেখানে এসে থামে। বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তির কাছে সময় জানতে গেলে তাঁকে জোর করে বাসের ভেতরে টেনে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর বাসটি নাংলোই এলাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই বাসের ভেতরে তাঁকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারী। ঘটনার পর তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী বিবাহিত এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তাঁর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় এবং একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পরে অভিযুক্ত বাসচালক ও তাঁর সহকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাসটি ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনা আবারও ২০১২ সালের বহুল আলোচিত ‘নির্ভয়া’ ধর্ষণ-হত্যার স্মৃতি সামনে নিয়ে এসেছে। সে সময় দিল্লির একটি চলন্ত বাসে ২৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্মম নির্যাতনের পর রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

‘নির্ভয়া’ ঘটনার পর ভারতজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। আইনের বিভিন্ন পরিবর্তনও আনা হয়েছিল। তবে নতুন করে এমন ঘটনা সামনে আসায় আবারও দিল্লির নারী নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Share.
Exit mobile version