নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছর হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৫২৬ জন হজযাত্রী পবিত্র সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১০টা পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ মোট তিনটি এয়ারলাইন্সের ১৪৮টি ফ্লাইটে তারা জেদ্দায় পৌঁছান। তবে হজ কার্যক্রমের এ পর্যায় পর্যন্ত স্বাভাবিক বার্ধক্যজনিত কারণে ১৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে তথ্য দেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জন মক্কায় এবং ৩ জন মদিনায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন জানিয়েছেন, হাজিদের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মৃতদের দাফন-কাফনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত হজযাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতে বিশেষ মেডিকেল ও আইটি সাপোর্ট টিম কাজ করে যাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ২৮ হাজার ৬৬৯ জন হজযাত্রী মক্কা ও মদিনার মেডিকেল সেন্টারগুলো থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন এবং ১৬ হাজার ৪৩০ জন আইটি হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে ডিজিটাল সহায়তা লাভ করেছেন।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। কার্যক্রম পরিচালনায় ৩০টি লিড এজেন্সিসহ মোট ৬৬০টি এজেন্সি মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, বাকি প্রায় ২০ হাজার ৮৫২ জন হজযাত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারবেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এখন পর্যন্ত ৭৩টি ফ্লাইটে ২৮ হাজার ৮৩৪ জন হজযাত্রী পরিবহন করেছে, যা মোট যাত্রীর একটি বড় অংশ। এছাড়া সৌদি এয়ারলাইন্স ৫৩টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ২৩৬ জন এবং ফ্লাইনাস ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৫৬ জন যাত্রী পৌঁছে দিয়েছে।
গত ১৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন। ওই রাতেই ৪১৮ জন যাত্রী নিয়ে প্রথম বিমানটি জেদ্দার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।
সৌদি দূতাবাসের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৭৮ হাজার ৩৭৮টি হজ ভিসা ইস্যু করা হয়েছে, যার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের হজযাত্রীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হবে। তখন থেকে হাজিদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলবে।

