মকবুল হোসেন
রূপগঞ্জ উপজেলায় ভূমিদখলকারী রফিকুল ইসলাম ওরফে ‘আন্ডা রফিক’-এর বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান, সরকারি রাস্তা, খাস জমি এবং সাধারণ মানুষের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত রোববার (০৫ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় স্থানীয় ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম তার প্রভাব খাটিয়ে আহলে হাদিস জামে মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান ও ঈদগাহের জমি নিজের ও তার সন্তানদের নামে রেজিস্ট্রেশন করে আত্মসাৎ করেছেন। ২০১৪ সালে মসজিদটি ৮ তলা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৮ বিঘা জমি রেজিস্ট্রেশন করে নিলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৩ তলা নির্মাণ করে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া সরকারি রাস্তা, খাস জমি এবং সাধারণ মানুষের জমি অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দখল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এক ভুক্তভোগী জানান, তার ১০ বিঘা জমি দখল করে রাখলেও থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় ৫০ লাখ টাকার জমি মাত্র ৩ লাখ টাকায় লিখে দিতে বাধ্য করা হয়েছে অনেককে।
সভায় ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ও মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল হালিম বলেন, “দীর্ঘদিন আমরা এই প্রভাবশালী নেতার কাছে জিম্মি ছিলাম। তিনি শুধু মানুষের জমিই নয়, আল্লাহর ঘরের জমিও নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। আমরা তার হাত থেকে মুক্তি চাই এবং সব জমি ফেরত চাই।”
অন্যান্য বক্তারা রফিকুল ইসলামকে ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘দখলদার’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, তিনি ক্ষমতার দাপটে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। এমনকি সরকারি নিয়ম না মেনে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর রাস্তা নির্মাণ করলেও ক্ষতিগ্রস্তদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন নয়ন, দবির হোসেন, রাসেল, কাজী এনায়েত উল্লাহ, মনির হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সভা শেষে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘোষণা দেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে খাস জমি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের জমি দখলমুক্ত করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। পাশাপাশি অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লুণ্ঠিত সম্পদ উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।

