শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের উত্তরপ্রদেশজুড়ে ভয়াবহ ঝড়, বজ্রপাত ও অকাল ভারী বর্ষণে অন্তত ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) রাতভর চলা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজ্যটির প্রয়াগরাজ, ভাদোহি, ফতেহপুর ও প্রতাপগড় জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়া ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি শত শত কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে যে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্যোগের পরপরই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পরিস্থিতির বিষয়ে জরুরি বৈঠক করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রয়াগরাজে ১৭ জন, ভাদোহিতে ১৬ জন এবং ফতেহপুরে ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বদাউন, প্রতাপগড়, চন্দৌলি ও কুশীনগরসহ আরও বেশ কিছু জেলায় বজ্রপাত ও দেয়াল ধসের ঘটনায় বাকিদের মৃত্যু হয়েছে। প্রয়াগরাজ জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে অধিকাংশ মানুষ গাছচাপা পড়ে অথবা ঘর ধসে মারা গেছেন। বিশেষ করে হান্ডিয়া ও ফুলপুর এলাকায় প্রাণহানির হার ছিল সবচেয়ে বেশি।

এছাড়া, ভাদোহি জেলায় ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং বহু এলাকা এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বিশেষ মেডিকেল টিম ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রতাপগড় ও ফতেহপুরে দেয়াল এবং সিমেন্টের ছাউনি ধসে বেশ কয়েকজন নারী ও শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কানপুর দেহাতে বজ্রপাতে এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায় যে বৃষ্টির সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়ার কারণে বজ্রাঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। সোনভদ্র ও দেওরিয়া জেলায় গাছচাপা পড়ে এবং মাঠের কাজ করার সময় বজ্রপাতে আরও কয়েকজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। বর্তমানে দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম চলছে এবং আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই দুর্যোগের ফলে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি থমকে গেছে। রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রেও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাকা গম ও মৌসুমি সবজির খেতে পানি জমে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিন পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব ও কৃষি বিভাগকে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত জরিপ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে উত্তর ভারতে এমন প্রবল ঝড় ও বজ্রপাতকে অস্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেছেন। তারা ধারণা করছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা বা গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বীমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Share.
Exit mobile version