আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নতুন হিজরি বছর উপলক্ষে পবিত্র কাবা শরিফে পুরোনো গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন কিসওয়া পরানো হয়েছে। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও নিখুঁত কারুশিল্পে তৈরি এই নতুন কিসওয়া ইসলামী ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এক নিদর্শন হিসেবে কাবাঘরকে নতুন আবরণে সজ্জিত করেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, মসজিদুল হারামের অন্যতম প্রধান রীতি হিসেবে প্রতিবছর কাবা শরিফের কিসওয়া পরিবর্তন করা হয়। মক্কার কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য হোলি কাবা কিসওয়ায় কয়েক মাসের প্রস্তুতির পর নতুন এই গিলাফ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়।
নতুন কিসওয়া তৈরিতে প্রায় ১৫০ জন সৌদি কারিগর অংশ নিয়েছেন। ১১ মাস ধরে ৪৭টি বিশেষ কালো রেশমি কাপড়ের টুকরা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এটি। এতে পবিত্র কোরআনের ৩০টি আয়াত খোদাই করা হয়েছে এবং রুপালি সুতার ওপর ব্যবহার করা হয়েছে ২৪ ক্যারেট সোনার প্রলেপ।
পুরো কিসওয়ার ওজন ১ হাজার ৪১০ কেজি। এতে কাবার মিজাব (বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের নল), কোণা এবং অন্যান্য অংশের জন্য স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া সুতার সূক্ষ্ম কারুকাজ, হিজাম (কোমরবন্ধ), সামাদিয়াহসহ বিভিন্ন অলংকার যুক্ত করা হয়েছে।
দৃষ্টিতে কিসওয়া একটি অখণ্ড কাপড়ের আবরণ মনে হলেও এটি আসলে বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত কাপড়ের সমন্বয়ে তৈরি একটি জটিল কাঠামো। এর বাইরের প্রধান আবরণ তৈরি করা হয়েছে কালো রেশম দিয়ে, যা কাবাঘরের পরিচিত সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তোলে।
কিসওয়ার স্থায়িত্ব বাড়াতে ভেতরের আস্তরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ঘিয়ে রঙের সুতি কাপড়। কাঠামোগত ভারসাম্য রক্ষায় কিছু অংশে সাদা সুতি কাপড়ও যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নকশা ও অলংকরণের নির্দিষ্ট অংশে ব্যবহার করা হয়েছে লাল রেশম।
কাবার দরজার পর্দার পেছনের অংশ এবং অভ্যন্তরীণ আবরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে সবুজ রেশমি কাপড়। বিভিন্ন উপকরণের সমন্বয়, সূক্ষ্ম নকশা এবং দীর্ঘ সময়ের কারিগরি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে এই কিসওয়া।
সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সে কিসওয়া তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় ইসলামি কারুশিল্পের ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় করা হয়। প্রতিবছর নতুন কিসওয়া প্রস্তুত ও স্থাপনের মধ্য দিয়ে কাবা শরিফের প্রতি বিশেষ যত্ন ও সম্মান প্রদর্শনের ঐতিহ্য অব্যাহত রয়েছে।

