নিজস্ব প্রতিবেদক
জনগণের দাবি ও প্রয়োজনের ভিত্তিতেই কুমিল্লাকে বিভাগে উন্নীত করার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “জনগণের দাবি হয়ে থাকলে অবশ্যই কুমিল্লা বিভাগ হবে। তবে এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে সবার আগে দেশ—এবং এই দেশটা আমাদের সবার। জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে আমরা মানুষের সামনে যেসব পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করেছিলাম, তার প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে।” আজ শনিবার (১৬ মে) কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আজ দুপুর সোয়া ১১টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভামঞ্চে উঠলে উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থক ও সাধারণ মানুষ মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এর আগে সকাল থেকেই ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লেকার্ড নিয়ে ছোট ছোট মিছিলের মাধ্যমে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মাঠে জমায়েত হতে থাকেন। সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যেই পুরো সভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয় এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পথসভাটি একটি বিশাল জনসভায় রূপ নেয়। প্রিয় নেতাকে দীর্ঘকাল পর কাছ থেকে দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনতা এ সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘কুমিল্লা বিভাগ চাই’ স্লোগান তুলতে থাকেন।
জনতার এই দাবির জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বভাবসুলভ হাসিমুখে ইতিবাচক সাড়া দেন। তিনি বলেন, “ঠিক আছে। কুমিল্লাকে বিভাগ করার বিষয়ে আপনারা যে দাবি তুলেছেন, তা অত্যন্ত যৌক্তিক। এই দাবির সঙ্গে যদি সর্বস্তরের মানুষ একমত হন, তবে তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি, তাই জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুষম উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে নাগরিক সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বরুড়ার এই সংক্ষিপ্ত পথসভা শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কপথে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী বেলা সাড়ে ১২টায় তিনি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের উয়ারুক বাজার এলাকায় পৌঁছান এবং সেখানে ‘খোর্দ্দ খাল’ পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামে গিয়ে স্থানীয় ঘোষের হাট সংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখনন কাজেরও ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। দুটি খালের খননকাজ উদ্বোধনের সময় তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়ন ও জলাশয় রক্ষায় দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।

