শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সম্পদ হিসেবে কুরবানির পশুর কাঁচা চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে এবার ২০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। মাঠপর্যায়ে এর সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই অর্থ বিভাগ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, চামড়া পাচার রোধ এবং প্রান্তিক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবার নজিরবিহীন কঠোর অবস্থানে থাকবে। এই বরাদ্দকৃত অর্থ সরাসরি চামড়া শিল্পে নয়, বরং সারা দেশে লবণ কেনা, সংশ্লিষ্টদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণার কাজে ব্যয় করা হবে যাতে কোনোভাবেই কাঁচা চামড়ার গুণগত মান নষ্ট না হয়।

বিগত কয়েক বছর ধরে সঠিক সংরক্ষণের অভাব এবং দরপতনের কারণে কুরবানির চামড়া নষ্ট হওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা বন্ধ করাই এ বছরের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্থানীয় পর্যায়ের ক্ষুদ্র সংগ্রাহক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত কসাই, মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং মাদ্রাসা-এতিমখানার সংশ্লিষ্টদের সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানো ও লবণ দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে সংগৃহীত চামড়া যেমন অকালে নষ্ট হবে না, তেমনি দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলো তাদের সংগৃহীত চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছে।

কুরবানির চামড়া সংরক্ষণের এই নিবিড় তৎপরতা পরোক্ষভাবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত চামড়া শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে পচনমুক্ত ও মানসম্পন্ন চামড়ার কোনো বিকল্প নেই। পশুর চামড়া ছাড়ানোর মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে পর্যাপ্ত লবণ দিতে না পারলে এর মান স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে ট্যানারিগুলো বিশ্ববাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পায় না। এই সংকট কাটাতে এবার মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি চালানো হবে এবং চামড়া পাচার রোধে সীমান্ত এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও বিধিনিষেধ জোরদার করা হবে।

সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত করতে প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত বাজার পরিদর্শন এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। কোনো কুচক্রী মহল যাতে সিন্ডিকেট করে দাম কমাতে না পারে, সেজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে। যদিও পরিবহণ ও ট্যানারিগুলোর অভ্যন্তরীণ কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো বিদ্যমান, তবে সরাসরি মাঠপর্যায়ে লবণের ভর্তুকি ও প্রশিক্ষণের এই কার্যক্রম রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়াকরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাঁচা চামড়ার এই সঠিক সংরক্ষণ প্রক্রিয়া সফল হলে চামড়া শিল্প তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Share.
Exit mobile version