পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকার, পুলিশ ও বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক লাইভে এসে এসব অভিযোগ করেন মমতা। তিনি বলেন, সরকারবিরোধী অবস্থান নিলে সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি সরকারপন্থী নয়—এমন সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়েও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মমতা বলেন, ‘বাংলার অস্তিত্ব আজ বিপন্ন হতে চলেছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতি ভূলুণ্ঠিত।’ তার অভিযোগ, রাজ্য সরকার ঔদ্ধত্য ও অহংকারের শীর্ষে পৌঁছেছে।
সরকারি অনুষ্ঠানে গেরুয়া কার্পেট ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকলে সাধারণ মানুষের অধিকারও কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেই সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কোনো মামলা না থাকা ব্যক্তিদেরও ভুয়া মামলায় বেআইনিভাবে আটক করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন তৃণমূল নেত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ছবি তোলা নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মানায়, কিন্তু রাজ্যের দায়িত্বে যিনি রয়েছেন, তার সঙ্গে তা মানায় না।
অন্য দল থেকে নেতাকর্মীদের নিজেদের দলে নেওয়ার প্রসঙ্গেও বিজেপিকে কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি বলেন, যারা এখন অন্য দলের নেতাকর্মীদের ভাঙিয়ে নিজেদের দল ভারী করছে, একদিন তাদেরও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তাদের দলও একদিন ভেঙে টুকরো হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

