দেশের আলো ডেস্ক
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে ঘাটতি, কয়লা সংকট এবং একাধিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি— এই তিন দিকের চাপে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আবারও নাজুক হয়ে পড়েছে। চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা পর্যন্ত সর্বত্রই ভোগান্তি বাড়ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বাংলাদেশ তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৫ হাজার ৭৯০ মেগাওয়াটের বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৬৬৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল প্রায় ২ হাজার ১২২ মেগাওয়াট। এর আগের দিন শনিবার এই লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ২০২ মেগাওয়াট।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণ এবং নির্ধারিত সময়ে কয়েকটি কার্গো না আসায় বর্তমানে দেশে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ২৩২ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে ১৬২ কোটি এবং এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। অথচ সরকারি হিসাবেই দেশে গ্যাসের চাহিদা প্রতিদিন ৩৮০ কোটি ঘনফুট এবং খাতসংশ্লিষ্টদের মতে প্রকৃত চাহিদা প্রায় ৫৫০ কোটি ঘনফুট। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, কয়লার অভাবে ১ হাজার ২৩৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৪৫৫ মেগাওয়াট। একই কারণে ১ হাজার ১৭০ মেগাওয়াট সক্ষমতার পটুয়াখালী তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রেও প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপন্ন হচ্ছে। এর বাইরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১ হাজার ১৬৩ মেগাওয়াট সক্ষমতার পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে ৫৭০ মেগাওয়াটে নেমেছে এবং বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে দৈনিক ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে কয়লা পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে বলে পিডিবিকে জানিয়েছে।
এই ত্রিমুখী সংকট কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ১৩-১৪ সেপ্টেম্বর থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে দৈনিক গড়ে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুটে নেওয়া হবে। চলতি মাসে সাতটি এলএনজি কার্গো সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।
একইভাবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, রামপালের কয়লা সংকট চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কেটে যাবে এবং পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে আদানি পাওয়ার থেকেও সরবরাহ বাড়বে।
সাম্প্রতিক সময়ে গরম কিছুটা কম থাকায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা গত মাসের ১৭ হাজার মেগাওয়াট থেকে কমে বর্তমানে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের ঘরে অবস্থান করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদী, আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কয়লা ও যান্ত্রিক সমস্যার সমাধান হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

