শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের আরও মানবিক, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনগণের আস্থা অর্জনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

রোববার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট অংশ নেয় বর্ণাঢ্য বার্ষিক কুচকাওয়াজে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও পেশাদার ও মানবিক হতে হবে। জনগণ যেন পুলিশের কাছে নিরাপত্তা, সহযোগিতা ও ন্যায়বিচারের আশ্রয় খুঁজে পায়, সেই পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “দেশের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করাই সরকারের প্রত্যাশা।”

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তাদের আত্মত্যাগ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, শুধু শহীদদের স্মরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরশাসক বা ফ্যাসিবাদী শক্তি পুলিশ বাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ নতুন গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে পেয়েছে। বহু বছর ধরে নির্যাতন, হামলা-মামলা ও বঞ্চনার শিকার মানুষ এখন শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম। দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুলিশ বাহিনী সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। দেশের মানুষের সঙ্গেও পুলিশের আচরণ আরও মানবিক হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার কিছু বিষয় এখনও গবেষণার দাবি রাখে। সে সময় সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে একত্রে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী চিন্তা বা কৌশল ছিল, তা গবেষকদের অনুসন্ধানের বিষয় হতে পারে।

বক্তব্যের শেষে কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যের পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী দম্পতি বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি, পুনাকের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

Share.
Exit mobile version