মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজ্বালানি বাজার অস্থির। এসময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভিতে তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তি খাতকে সুরক্ষিত রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি জানান, এই পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পরমাণু শক্তির নিরাপদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিকল্প শক্তির উৎস বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শি জিনপিং বলেন, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সেই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে চীন একটি আধুনিক ‘জ্বালানি সুরক্ষা কৌশল’ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং দেশের নিজস্ব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। যদিও প্রেসিডেন্ট সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেননি, বিশ্লেষকরা মনে করেন, বর্তমান অস্থিতিশীলতা এই পরিকল্পনার প্রধান কারণ। চীনের বড় শিল্প খাত সচল রাখতে প্রচুর তেলের প্রয়োজন, যার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যুদ্ধের ফলে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।

শি জিনপিং বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য বিকল্প শক্তি উৎসকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি চীন সফলভাবে জলবিদ্যুৎ ও পরমাণু শক্তির ওপর ভিত্তি করে নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, তবে তা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের সমীকরণকেও প্রভাবিত করবে।

বর্তমান সময়ে এই কৌশল চীনের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি নীতিতে বেইজিংকে আরও প্রভাবশালী অবস্থানে রাখবে। শি জিনপিংয়ের এই পদক্ষেপ দেশকে ভবিষ্যতে যে কোনো বৈশ্বিক শক্তি সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুত রাখবে এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

Share.
Exit mobile version