মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি পেন্টাগনকে চীন ও রাশিয়ার সমপর্যায়ের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের শীর্ষ বৈঠকের কয়েক মিনিট আগে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এ নির্দেশ দেন ট্রাম্প।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে নতুন করে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

এর আগের দিন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে মস্কো সফলভাবে একটি পারমাণবিক সক্ষম পানির নিচের ড্রোন পরীক্ষা করেছে। পুতিনের এই ঘোষণার পরই ট্রাম্পের নির্দেশ আসে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন,

“অন্যান্য দেশ যখন পারমাণবিক পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, তখন আমি আমাদের যুদ্ধ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি সমপর্যায়ের পরীক্ষা শুরু করতে। এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে।”

অনিশ্চয়তা ও সমালোচনা

ট্রাম্পের ঘোষণায় এখনো পরিষ্কার নয়, তিনি পারমাণবিক অস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাই পরীক্ষা বোঝাতে চেয়েছেন, নাকি পূর্ণাঙ্গ বিস্ফোরণ পরীক্ষা—যা ১৯৯২ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র আর করেনি।

ইরান ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রাগার সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি, পরীক্ষার ধরন কী হবে।
ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন,

“আমাদের অস্ত্রাগার সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাই করা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এটিই প্রেসিডেন্টের বক্তব্য।”

শান্তির প্রেসিডেন্টের ‘বিস্ফোরক’ ঘোষণা

নিজেকে প্রায়ই ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে পরিচয় দেন ট্রাম্প। কিন্তু তার এই ঘোষণা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল রাশিয়া বা চীনের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং ইরানসহ অন্যান্য দেশকে উদ্দেশ্য করেও সতর্কবার্তা হতে পারে।

রাশিয়া সম্প্রতি পারমাণবিক শক্তিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও সমুদ্র ড্রোন পরীক্ষার ঘোষণা দিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই ট্রাম্পের মন্তব্য এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) অনুযায়ী, বর্তমানে রাশিয়ার কাছে ৫,৪৮৯টি, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৫,১৭৭টি এবং চীনের কাছে প্রায় ৬০০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন,

“আমার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক শক্তি হয়ে উঠেছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে।

Share.
Exit mobile version