বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। কিন্তু তীব্র ডিজেল সংকট ও জ্বালানি সংগ্রহের জটিলতায় পড়েছেন কৃষক ও মেশিনমালিকরা। জ্বালানির অভাবে কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার মেশিন চালান সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক এলাকায় ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে, কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।

জেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটা শুরু হলেও পর্যাপ্ত মেশিন সচল না থাকায় শ্রমিক সংকট ও সময়মতো ফসল কাটার অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মদনপুর এলাকার কৃষক আবদুল্লাহ মিয়া জানান, প্রায় ৯০ কেয়ার জমিতে ধান চাষ করেছেন তিনি। গত দুই দিনে কিছু ধান কাটতে পারলেও এখনও অনেক জমি বাকি রয়েছে এবং ধান পাকলেও কীভাবে কাটবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। একই এলাকার গোবিন্দপুরের কৃষক ও সাবেক ইউপি সদস্য ইকবাল আহমদ বলেন, অনেক মেশিনমালিক তেল না পেয়ে পাম্প থেকে ফিরে গেছেন এবং তাদের কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওর প্রত্যয়ন আনতে বলা হয়েছে।

নিয়ামতপুর গ্রামের হারভেস্টার মালিক আবদুল হক জানান, করচার হাওরে ধান কাটা শুরু করলেও জ্বালানি সংকটে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তেল সংগ্রহে তাকে প্রথমে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার শনাক্তকরণ স্লিপ, পরে কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনওর স্বাক্ষর নিতে হয়েছে। ২০০ লিটার অনুমতি পেলেও এক পাম্পে ১০০ লিটারের বেশি তেল না পেয়ে শেষে ২১ কিলোমিটার দূরের পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে হয়েছে। এতে সময় ও খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। একইভাবে আরও অন্তত আটজন হারভেস্টার মালিককে একাধিক পাম্পে ঘুরতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের জামাল উদ্দিন জানান, তার দুটি হারভেস্টার মেশিনের একটি বন্ধ হয়ে গেছে এবং অন্যটি পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না, ফলে তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেক মালিক অভিযোগ করেন, খোলা বাজারে ডিজেল না পেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, যেখানে ১০০ টাকার ডিজেল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বালিজুরি বাজারে তেল না পেয়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

দিরাই ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার কৃষকরাও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন। শান্তিগঞ্জের হারভেস্টার মালিক আবিদুর রহমান টিপু বলেন, চারটি মেশিন থাকলেও ডিজেল সংকটে সেগুলো চালানো যাচ্ছে না এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলা হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে বর্তমানে ৬০২টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ১৫৫টি রিপার মেশিন রয়েছে, তবে জ্বালানি সমস্যার কারণে এসব যন্ত্রের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, প্রকৃত কোনো জ্বালানি সংকট নেই, তবে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কারণে সরবরাহে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে তেল দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। আগাম বৃষ্টিতে ইতোমধ্যে এক হাজার ৩৩১ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১৫ মে’র মধ্যে ধান কাটা সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

Share.
Exit mobile version