নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এবং শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ আখ্যা দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধেহাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম এ রিট আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে বলা হয়, হামের টিকাদান কর্মসূচিকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিটে কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ একাধিক সরকারি কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে। পাশাপাশি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।
আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম জানান, এর আগে গত ৬ এপ্রিল তিনি এ বিষয়ে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। ওই নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্যোগ নিতে বলা হয়। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত রিট দায়ের করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বাংলাদেশে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময় ১৬৬ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের বেশিরভাগই টিকাবঞ্চিত শিশু। আক্রান্তদের প্রায় ৭৯ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। (World Health Organization)
ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশে আবারও হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যেখানে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অনেক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার দাবি, টিকাদান কর্মসূচি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই এ ঘটনার পেছনে থাকা দায়িত্বশীলদের ভূমিকা তদন্ত করা জরুরি।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এদিকে ডব্লিউএইচও ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে হাম-রুবেলা টিকার ঘাটতি, নিয়মিত টিকাদানে বিঘ্ন এবং কয়েক বছর ধরে বড় পরিসরের টিকাদান কর্মসূচি না হওয়ায় দেশে রোগ প্রতিরোধে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এর ফলেই বর্তমান প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। (World Health Organization)
আবেদনকারীর দাবি, টিকাদান ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তে ‘অবহেলা ও অনিয়ম’ থাকতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে এখন সবার নজর।

