নিজস্ব সংবাদদাতা
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ১২ মে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে দিনব্যাপী ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে জাতীয় কর্মশালা’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষের রূপরেখা’। প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং পরে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। এই কর্মশালায় সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারক ছাড়াও ইউজিসির সদস্য, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, গবেষক, কূটনীতিক এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
আয়োজকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দেশের উচ্চশিক্ষায় আমূল পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অংশগ্রহণে এই আয়োজনটি দেশের শিক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ ও গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উদ্বোধন পরবর্তী অংশে পাঁচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি অধিবেশন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে উচ্চশিক্ষার গুণগত মান ও কর্মসংস্থানের নিবিড় সংযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এসব অধিবেশনে মূলত গ্রাজুয়েটদের সফট স্কিল উন্নয়ন, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংযোজন নিয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।
এছাড়া শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই সেশনগুলো থেকে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতেই উচ্চশিক্ষা উন্নয়নে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও বাস্তবায়নযোগ্য নীতিগত পথনকশা তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি।
ইউজিসি চেয়ারম্যানের মতে, উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এই কর্মশালাটি নীতিনির্ধারকদের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। এটি কেবল একটি আলোচনা সভা নয়, বরং উচ্চশিক্ষা নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের একটি কার্যকর রূপরেখা হিসেবে বাস্তবায়িত হবে।
দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের উপস্থিতিতে এই কর্মশালার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় এক নতুন ও আধুনিক যুগের সূচনা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

