নিজস্ব সংবাদদাতা
দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভ্যাকসিন বাজারজাত করা গেলে দেশের গবাদিপশু সুরক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি খামারিদের উৎপাদন ব্যয় অনেক কমে আসবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এর ফলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত দীর্ঘমেয়াদে আরও টেকসই হবে বলে মনে করেন তিনি।
শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার রাইচু ঈদগাহ মাঠে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত এলএসডি ও গোট পক্স টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিএলআরআইয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রাথমিকভাবে দুই হাজার ডোজ এলএসডি ও একশ ডোজ গোট পক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
দেশে গবাদিপশুর অত্যন্ত ক্ষতিকর রোগ এলএসডির প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এ রোগ ছড়িয়ে পড়লে খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। প্রতি বছর দেশে প্রায় আড়াই কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিনের চাহিদা থাকলেও এতদিন পুরোটাই আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে দেশীয় বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত নতুন এই ভাইরাল ভ্যাকসিন রোগটি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খামারিদের নিয়মিত টিকাদানের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি খামারে রোগ দেখা দিলে তা দ্রুত অন্যান্য পশুতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি করা যাবে না। একই সঙ্গে পশুখাদ্যের ব্যয় কমাতে বিএলআরআই উদ্ভাবিত ১৮ শতাংশ প্রোটিনসমৃদ্ধ নতুন জাতের ঘাস চাষের পরামর্শ দেন তিনি, যা দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরতা কমাবে।
এ ছাড়া দেশের ঐতিহ্যবাহী ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সংরক্ষণে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি জানান, গ্রামীণ অর্থনীতি ও রপ্তানি আয় বাড়াতে ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি, উন্নত জাতের ছাগল সরবরাহ এবং বিপণন সহায়তা প্রদান করা হবে, যেখানে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান। দেশীয় ভ্যাকসিনের সফল প্রয়োগ ও বাজারজাতকরণ শুরু হলে প্রাণিসম্পদ খাতে আমদানি নির্ভরতা কমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে প্রত্যাশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

