নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় রাজনৈতিক নিয়োগ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি ২০২৬: নেভিগেটিং রিস্কস, লেভারেজিং রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আর রাজনৈতিক নিয়োগ থাকবে না, সব নিয়োগই হবে পেশাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে জানিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ বন্ধ করা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বাংলাদেশকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। উচ্চ সুদের ঋণ ও ক্রমবর্ধমান ঋণসেবার ব্যয় দেশের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, চলতি বাজেটে শুধু সুদ পরিশোধেই প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় সীমিত করছে।
বড় অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারভিত্তিক অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে পুঁজিবাজার সংস্কার ও পেশাদার নেতৃত্ব নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
সরকারি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারভিত্তিক কাঠামোয় পরিচালনার ওপরও তিনি জোর দেন, যাতে তারা সরকারি কোষাগারের পরিবর্তে নিজস্ব উৎস থেকে অর্থায়ন করতে পারে।
বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করতে চলমান ডিরেগুলেশন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে টাস্কফোর্স গঠন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কোনো অনুমোদন আবেদন সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হিসেবে গণ্য করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে আয়োজিত এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান অর্থনৈতিক কূটনীতির রূপরেখা তুলে ধরেন। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বিনিয়োগ ও সংস্কার উদ্যোগ উপস্থাপন করেন।
দিনব্যাপী সম্মেলনে সরকারি নীতিনির্ধারক, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইএমএফ, এআইআইবি এবং আইডিবিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় এলডিসি উত্তরণ, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
চাওলে আমি এটাকে আরও Reuters wire-style (আরও টাইট, ২০–২৫% ছোট, বেশি impact-driven) ভার্সনও বানিয়ে দিতে পারি।

