অনলাইন ডেস্ক
দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই বলেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট আকারে বড় হলেও তা সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছ বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জনযোগ্য। তবে বাজেটের লক্ষ্য পূরণে নীতিগত ধারাবাহিকতা, সুশাসন এবং কার্যকর প্রশাসনিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি।
বাজেট-পরবর্তী এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এফবিসিসিআই জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা, আইসিটি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে জোর দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি মনে করে, সরকারের ঘোষিত ‘রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন (থ্রিআর)’ কৌশল অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এফবিসিসিআইয়ের মতে, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট চলতি বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি, যা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ থাকলেও যথাযথ পরিকল্পনা থাকলে সম্ভব।
সংগঠনটি বলছে, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনের জন্য কর প্রশাসন সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং এনবিআরের সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি (জিডিপির ৩.৬ শতাংশ) পূরণে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়বে, যা সতর্ক ব্যবস্থাপনা দাবি করে।
এফবিসিসিআই বিশেষভাবে সতর্ক করেছে যে ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের অর্থায়ন সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে স্বল্পসুদে বৈদেশিক অর্থায়ন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে তারা।
সংগঠনটির মতে, আগামী অর্থবছরে সুদ পরিশোধ বাবদ ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে, যা বাজেটের ওপর বড় চাপ তৈরি করবে।
এফবিসিসিআই বলেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত, খেলাপি ঋণ, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এসব মোকাবিলায় তারা বিনিয়োগ অঞ্চল কার্যকর করা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আইটি ও ইলেকট্রনিক্স খাতে দক্ষ জনবল তৈরি, পুঁজিবাজার শক্তিশালীকরণ, ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং লজিস্টিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর সুবিধা সম্প্রসারণ, স্টিমুলাস প্যাকেজ, এসএমই ও নারী উদ্যোক্তা সহায়তা এবং ডিজিটাল কর ব্যবস্থার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সর্বোচ্চ করহার ও কিছু স্ল্যাব কাঠামো পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির করহার ও টার্নওভার কর হ্রাসের প্রস্তাব দিয়েছে।
অন্যদিকে অগ্রিম আয়কর, উৎসে কর, ভ্যাট কাঠামো সহজীকরণ এবং কর প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনকে ব্যবসাবান্ধব সংস্কার হিসেবে উল্লেখ করেছে এফবিসিসিআই।
সব মিলিয়ে এফবিসিসিআই মনে করে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রস্তাবিত বাজেট একটি বাস্তবসম্মত ও বিনিয়োগবান্ধব কাঠামো। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়ন, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর।
সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের অনেক সুপারিশ বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে, এজন্য তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও পর্যালোচনামূলক সুপারিশ দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
সূত্র: বাসস

