ক্রীড়া প্রতিবেদক
নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ঘিরে জমে উঠেছে গোয়া। আজ (শনিবার) সন্ধ্যা ৭টায় ভারতের গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। শিরোপা ধরে রেখে হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ, আর দুই আসরের বিরতির পর ট্রফি পুনরুদ্ধারের মিশন স্বাগতিক ভারতের।
সেমিফাইনালে উভয় দলই জয় দিয়ে ফাইনালে ওঠে। বাংলাদেশ বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে নেপালকে ২–১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। একই দিনে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত ভুটানকে ১–০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা করে নেয়।
তবে ভারতের সেই জয় নিয়ে আলোচনা আছে। তুলনামূলক দুর্বল ভুটানের বিপক্ষে তারা মাত্র ১–০ গোলে জয় পায়। কোচিং স্টাফ সেই ম্যাচে মূল একাদশের কিছু খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রাখেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, ফাইনালে বাংলাদেশকে সামনে রেখে শক্তি ও স্ট্যামিনা সংরক্ষণের কৌশল হিসেবে।
ফাইনালের আগে দুই দলের আবহে একদিকে ছিল সৌহার্দ্য, অন্যদিকে ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ। ট্রফি নিয়ে ফটোসেশন শেষে সুইমিংপুলের পাশে কোচ পিটার জেমস বাটলার ও ভারতের কোচ ক্রিসপিন ছেত্রির আলাপচারিতা চোখে পড়ে। একইভাবে বাংলাদেশ অধিনায়ক মারিয়া মান্দা ও ভারতের সঙ্গীতা বাসফোরও ক্যাম্পের পরিবেশে স্বাভাবিক আড্ডায় অংশ নেন। তবে মাঠের লড়াইয়ের জন্য এই সম্প্রীতির জায়গা যে দ্রুতই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নেবে, তা দুই দলই ভালোভাবে জানে।
বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু একটি ফাইনাল নয়, বরং টানা তৃতীয় শিরোপা জয়ের সুযোগ। ২০২২ ও ২০২৪ আসরে শিরোপা জিতে ইতিমধ্যে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে দলটি। অন্যদিকে ভারত ২০১৬ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে শিরোপা জিতেছিল এবং ২০১৯ সালে নেপালের বিপক্ষে ট্রফি ধরে রাখে। তবে গত দুটি আসরের ফাইনালে উঠতে না পারা ভারত এবার ঘরের মাঠে মুকুট ফেরাতে মরিয়া।
পরিসংখ্যানও ইঙ্গিত দিচ্ছে দুই দলের সমান লড়াইয়ের। সাফে এখন পর্যন্ত ৯ দেখায় ভারতের জয় ৬টি, বাংলাদেশের ২টি এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। চলতি আসরে ভারত সর্বোচ্চ ১৫ গোল করে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক দল হলেও তারা নিজেদের রক্ষণও অক্ষত রেখেছে। বাংলাদেশ শেষ তিন ম্যাচে ৫ গোল করলেও হজম করেছে ৬টি, যা ফাইনালের আগে রক্ষণভাগে কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ।
বাংলাদেশ দলে আঘাতের ধাক্কাও আছে। মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা গোড়ালির চোটে পুরোপুরি ফিট নন এবং তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের শক্তি বেড়েছে ফরোয়ার্ড মনিষা কল্যাণের ফেরা দিয়ে। পেরুর ক্লাব ফুটবলে খেলা এই তারকা গ্রুপ পর্ব ও সেমিফাইনালে ছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে ভারত বড় ব্যবধানে জয় পেলেও ফাইনালের আগে তিনি দলে ফিরে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
বাংলাদেশের আক্রমণভাগের মূল ভরসা আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী ও ঋতুপর্ণা চাকমা। তবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও উইং থেকে যথাযথ সাপোর্ট না পাওয়ায় আক্রমণে ধার কমেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে পাওয়া ৩–০ ব্যবধানের হার দলের জন্য এখনো সতর্কবার্তা হয়ে আছে।
ফাইনালের আগে দুই দলের কোচই ম্যাচটিকে ভিন্ন ধরনের লড়াই হিসেবে দেখছেন। পিটার বাটলার মনে করেন, ফাইনালে মানসিক দৃঢ়তা ও ছোট মুহূর্তগুলো কাজে লাগানোই ফল নির্ধারণ করবে। অন্যদিকে ক্রিসপিন ছেত্রি বলেন, চাপ দুই দলের ওপরই থাকবে, তবে ঘরের মাঠে খেলা ভারতকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে।
২০১৬ সালের পর আবারও একই মঞ্চে বাংলাদেশ-ভারত লড়াই। সেবার জয় পেয়েছিল ভারত। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন—বাংলাদেশ টানা শিরোপার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায়, আর ভারত চায় ঘরের মাঠে হারানো মুকুট ফিরিয়ে নিতে। শেষ পর্যন্ত শিরোপা কার হাতে ওঠে, তা জানা যাবে ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে।

