রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার (২৪ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটি তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের অপসারণের দাবিও জোরালো হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেন। যদিও নির্বাসনে থেকেই তিনি বরাবর এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
রয়টার্সের সূত্রগুলোর দাবি, ৭৬ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
রাষ্ট্রপতি পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়ালে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও দেশের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত থাকে। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন।
এর আগে গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন।

