বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক 

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও অবাধ প্রজনন নিশ্চিতের লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা টানা ৫৮ দিন অর্থাৎ আগামী ১১ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

গভীর সাগর থেকে তীরে ফিরতে শুরু করেছেন জেলেরা। সমুদ্র থেকে ফেরা ট্রলারের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি জেলেরা তাদের জাল, ট্রলার ও সরঞ্জামাদি নিরাপদে রাখছেন। কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউবা ট্রলারের ইঞ্জিনের সংস্কার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভোলার সাত উপজেলায় মোট ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলে রয়েছেন, যারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা ও টাস্কফোর্স কমিটির পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মাছ ঘাটগুলোতে সচেতনতামূলক সভা ও মাইকিং করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞার শুরুতেই প্রতিটি নিবন্ধিত জেলে পরিবারের জন্য ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ-এর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৭ হাজার ৫৬১ জন জেলে রয়েছেন চরফ্যাশন উপজেলায়, এরপর দৌলতখানে ১১ হাজার ৫৫০ জন এবং মনপুরায় ১০ হাজার ১৮৫ জন জেলে রয়েছেন।

৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের অবাধ প্রজননের লক্ষ্যে সরকার ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছিল। তবে দেশীয় জেলেদের অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও একই সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেরা অবাধে মাছ শিকার করত। এ নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলনের পর এবং ২০১৯ সালে গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের প্রেক্ষাপটে সরকার গত বছর থেকে ভারতের সাথে সময়সীমা সমন্বয় করে ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিবেশী দেশের সাথে সময়সীমার এই সমন্বয়ের ফলে সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ইলিশ আহরণে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে। মেরিন ফিশারিজ অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা নৌকা সাগরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share.
Exit mobile version