নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুব শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানি খাতে দীর্ঘদিনের একচেটিয়া সিন্ডিকেট ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (১৮ মে) ঢাকা সফররত কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি–এর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কবে নাগাদ পুরোপুরি সচল হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যেই মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হবে।” তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় এবং একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকার কার্যত ‘জিহাদ’ ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজারটি ২০২৪ সালের মে মাস থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে। ওই সময় মালয়েশিয়া সরকার নীতিগত সিদ্ধান্তে জানায়, আগে অনুমোদন পাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের অবশ্যই ২০২৪ সালের ৩১ মে’র মধ্যে দেশটিতে প্রবেশ করতে হবে। এরপর নতুন কোনো কর্মী ভিসা ইস্যু করা হবে না।

সময়সীমা শেষ হওয়ার পর গত দুই বছরে নতুন করে কোনো বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাননি। এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে একাধিকবার কূটনৈতিক আলোচনা ও সমাধানের চেষ্টা হলেও আইনি ও নীতিগত জটিলতার কারণে বাজারটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের অন্যতম প্রধান রেমিট্যান্স খাত পুনরুজ্জীবিত করতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে। এর অংশ হিসেবে গত এপ্রিল মাসে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে কুয়ালালামপুর সফর করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম–এর সঙ্গে তাদের বৈঠকে অভিবাসন ব্যয় কমানো, স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সিন্ডিকেটমুক্ত জনশক্তি রপ্তানি কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে দুই দেশ নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছায়।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শ্রমবাজারটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Share.
Exit mobile version