নিজস্ব সংবাদদাতা

জাতিসংঘের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য চলতি বছর ৭১ কোটি ৫ লাখ ডলার (৭১.০৫ কোটি ডলার) সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা, সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ আটটি খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

আজ বুধবার (২০ মে) ঢাকার জাতিসংঘ ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে হালনাগাদ তহবিল পরিকল্পনা তুলে ধরে এ তথ্য জানানো হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং টেকনাফ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাসহ মোট প্রায় ১৫ লাখ ৬ হাজার মানুষের সহায়তায় এই তহবিল ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) ২০২৬’ বাস্তবায়ন করছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৫২টি বাংলাদেশি সংস্থাসহ মোট ৯৮টি মানবিক অংশীদার এই পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছে।

জাতিসংঘ সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও মানবিক সংকটের কারণে অর্থায়নে চাপ বাড়লেও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই সংকটের টেকসই সমাধান বলে তারা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ইউএনএইচসিআর-এর ডেপুটি হাই কমিশনার কেলি টি. ক্লেমেন্টস বলেন, তহবিল সংকুচিত হয়ে আসায় শরণার্থীদের স্বনির্ভরতা বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে, যাতে তারা ধীরে ধীরে নিজেদের জীবন পুনর্গঠন করতে পারে।

ডব্লিউএফপি’র প্রতিনিধি রানিয়া দাগাশ-কামারা বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে উদারভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। দাতাদের অব্যাহত সহায়তা এখনো জীবনরেখা হিসেবে কাজ করছে।

ইউএন উইমেন’র প্রতিনিধি নিয়ারাদজাই গুম্বনজভান্দা বলেন, তহবিল কমে যাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নারী ও কিশোরীদের ওপর, যাদের সুরক্ষা ও সহায়তা এখন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা সংকটে প্রায় ৫.৪২ বিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। চলতি পরিকল্পনায় খাদ্য, বাসস্থান, পানি-স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবিকা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।

Share.
Exit mobile version