নিজস্ব প্রতিবেদক

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। কদম ফুল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার তরুণ মিলে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর, প্রমাণ লোপাট করতে জীবিত অবস্থাতেই কংস নদে ফেলে দেয়। কয়েক ঘণ্টা পর নদী থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পরিবার।

এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের মারুফ মিয়া (১৯), আরিফ মিয়া (১৯) এবং রাকিব মিয়া (২১)। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে একজন  ঘটনার বিবরণ দিয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৪ জুন) বিকেল পাঁচটার দিকে নিজ বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় ওই শিশু। পরিবারের সদস্যরা সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাড়ি থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ দূরে কংস নদে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ভেবে রোববার  রাতেই শিশুটির মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাকে গোসল করাতে গিয়ে নারী স্বজনেরা শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে গুরুতর ক্ষত দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে দাফন স্থগিত করে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ধোবাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। সোমবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের পর হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।

এদিকে ঘটনার ভয়াবহতা আমলে নিয়ে সোমবার দুপুরেই এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে পুলিশ। তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন হিসেবে মারুফ, রাকিব ও আরিফকে আটক করা হয়। পরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ধোবাউড়া থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, নিহত শিশুটি ঘটনার দিন বিকেলে স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফিরছিল। মাগরিবের আজানের ঠিক আগে পথে ওই চার তরুণের সঙ্গে তার দেখা হয়। তারা শিশুটিকে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে কংস নদের পাড়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে চারজন মিলে শিশুটিকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে।

অমানুষিক নির্যাতনের ফলে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে জীবিত অবস্থাতেই নদের স্রোতে ফেলে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

ধোবাউড়া থানায় দায়ের করা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মো. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে একজন চারজন মিলে শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। পলাতক  আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Share.
Exit mobile version