নিজস্ব প্রতিবেদক

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিগগিরই দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি এই কর্মসূচিতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (৩ জুন) রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো একটি চলমান প্রক্রিয়া হলেও মাঝেমধ্যে এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সমাজকে সচেতন করা সরকারেরই দায়িত্ব এবং এ লক্ষ্যে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ভূমিদস্যুতার পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধেও সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া কয়েকটি আলোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

তিনি জানান, জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এই সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পৃক্ত করা হবে।

শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধের উন্নয়নও অপরাধ দমনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে অধিকার, দায়িত্ব এবং নৈতিকতার শিক্ষা আরও বিস্তারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকেও এ উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে মূলধারার গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও আরও সক্রিয় হতে হবে।

আইনি কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আইন যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও এর বাস্তবায়ন এবং সামাজিক অবক্ষয়ই বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা মোকাবিলায় নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; বরং রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

Share.
Exit mobile version