আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে স্বর্ণ ও রূপায় সমৃদ্ধ বড় একটি খনিজভান্ডারের সন্ধান পেয়েছে চীনা গবেষক দল। প্রাথমিক পরীক্ষায় পাওয়া কিছু নমুনায় স্বর্ণ ও রূপার ঘনত্ব স্থলভাগের অনেক খনিজভান্ডারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পাওয়া গেছে।
চীনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতাভুক্ত একটি এলাকায় ‘সিয়াংইয়াংহং ১০’ গবেষণাজাহাজে ১৮ দিনের অভিযানে এই আবিষ্কার হয়। গবেষক দল ডুবোযানের সাহায্যে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মিটার গভীরে অনুসন্ধান চালিয়ে নতুন এই গভীর সমুদ্রের হাইড্রোথার্মাল খনিজক্ষেত্র শনাক্ত করে।
চীনের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা এই অভিযানে অংশ নেন। ১০ আগস্ট শেনঝেন থেকে যাত্রা করা গবেষণাজাহাজটি ১৮ দিনের অভিযানে সাতবার ডুবোযান নামিয়ে ওই এলাকায় অনুসন্ধান চালায়।
গবেষণায় সংগৃহীত আকরিকের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু নমুনায় প্রতি টন আকরিকে সর্বোচ্চ ১৫ দশমিক ৪ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া গেছে। একইভাবে রূপার পরিমাণ পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৭১ গ্রাম প্রতি টন। এসব নমুনায় স্বর্ণ ও রূপার গড় ঘনত্বও স্থলভাগের খনিজভান্ডারের তুলনায় বেশি বলে জানিয়েছে গবেষক দল।
নতুন খনিজক্ষেত্রটিতে তামা, লোহা ও দস্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খনিজের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পলিমেটালিক সালফাইড রয়েছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে এখানকার সম্ভাব্য খনিজসম্পদকে বিশ্বমানের সমুদ্রতলীয় খনিজভান্ডারের পর্যায়ের বলে মনে করা হচ্ছে।
গবেষক দল এর আগে ওই এলাকায় একাধিক জরিপ চালিয়ে ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মিটার গভীরে কয়েক ডজন উচ্চতাপমাত্রার হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট বা উত্তপ্ত সামুদ্রিক জলউৎসের সন্ধান পেয়েছিল। এসব উৎস থেকে নির্গত তরলের তাপমাত্রা ৩১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হতে পারে।
খনিজক্ষেত্রটির আশপাশে গভীর সমুদ্রের চরম পরিবেশে টিকে থাকা বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। এসব জীববৈচিত্র্য গভীর সমুদ্রের পরিবেশ ও সেখানে প্রাণের টিকে থাকার প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
তবে গভীর সমুদ্রের প্রচণ্ড চাপ, জটিল ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের কারণে এই খনিজসম্পদ এখনই বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন গবেষক দল।

